Search

 
 

পরবাস প্রবাসীদের কাগজ

  প্রথম পাতা
  সম্পাদকীয়
  জরুরী যোগাযোগ
  জাপানী পাতা
  অতিথী কলাম
  স্বদেশ
  নিয়মিত কলাম
  জাপানের জানালা
  প্রবাসীর  ভাবনা
  ধর্মীয় কলাম
  স্বাস্থ্য
  অর্থনীতি
  জাপানে  স্বাগতম
  কমিউনিটি  সংবাদ
  যত  দূরে  যাও
  সংগঠন  সংবাদ
  প্রবাস প্রজন্ম

আমাদের কথা

  পরবাস পরিবার
  পুরনো সংখা
  আমাদের কথা
  পরবাস পেতে হলে
  সকল যোগাযোগ
  সম্পাদক
  Administrator

বিজ্ঞাপন

 

Add 01

 

 

 

Add 02

 

 

 

Add 03

 

 


 

অতিথী  কলাম

সাদাসিধে কথা

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ডিসেম্বর মাসটা একটু অন্য রকম৷ আমরা যারা সত্যিকারের বিজয় দিবসটা দেখেছিলাম, এই মাসে সেই ঐতিহাসিক এবং প্রায় অলৌকিক সেই দিনটির কথা ঘুরে- ফিরে বারবার আমাদের মনে পড়বেই৷কী তীব্র ছিল সেই আনন্দের অনুভূতি! আমার মনে হয়, আমরা বুঝি পৃথিবীর সবচেয়ে সৌভাগ্যবান জাতিগুলোর একটি৷ একজন মানুষ তার জীবদ্দশায় এ রকম তীব্র আনন্দ আর কোনভাবে কি অনুভব করতে পারে?

ডিসেম্বর মাসটা একটু অন্য রকম৷ কারণ এমাসে মন্ত্রী না হয়েও গাড়িতে পতাকা লাগানো যায়৷ আমাদের দেশের মন্ত্রীরা অবশ্য খুব অনুকরণীয় চরিত্র নন, তাঁদের অনেকেই এখন কারাগারে৷ আদর্শীক কোন কারণে নয়, টাকা-পয়সা চুরির অভিযোগে৷ যাঁরা গাড়িতে পতাকা লাগান, তাঁরা সেটি করেন নিজের দেশের প্রতি এক মমতা থেকে, এই পতাকার জন্য যত মানুষ আত্বত্যাগ করেছে, বুকের রক্ত দিয়েছে, পৃথিবীর বেশীর ভাগ দেশে তত মানুষই নেই!ডিসেম্বর মাসটা একটা অন্য রকম৷ তার কারন, এই মাসটাতে শুধু যে বিজয় দিবস আছে তা নয়, এই মাসটাতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বলেও একটা দিবস আছে৷ আমাদের মনে হয়, এই মাস সেদিনের ঘটনা, যেদিন মুক্ত বাংলাদেশের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খবর পেয়েছিলাম এই দেশের সব বড় বড় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষককে রাতের অন্ধকারে ধরে নিয়ে গেছে আলবদরের দল৷ তখনো সবাই ভাবছে, তাঁদের বুঝি কোথাও আটকে রাখা হয়েছে, খুঁজে পাওয়া যাবে৷ খুঁজে সত্যিই পাওয়া গেল, তবে হাত-পা বাঁধা অবস্থায়,বধ্যভূমিতে,মৃত৷ হ্যাঁ, এটি সেই বদর বাহিনী, যে বদর বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদ৷ হ্যাঁ, ডিসেম্বর মাসটা একটু অন্য রকম৷ সারা বছর মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা মনে না করলেও যে মাসে সবাই একবার হলেও মনে করে৷ এই দেশে এখনো যে সব রাজাকার ঘুরে বেড়ায়, তারা এই ডিসেম্বর মাসে র্গেত লুকিয়ে থাকে৷ চট করে তারা মাথা বের করে না, তারা মুখ খোলে না৷

২.
এই ডিসেম্বর মাসে আমরা আরও একটা কাজ করি, পেছন ফিরে তাকিয়ে সারা বছরের একটা হিসাব নিই৷ এই বছরের হিসাবটা শুরু হয়েছিল নাটকীয় ভাবে ১১ জানুয়ারি দিয়ে৷ তখন সবাই ভেবেছিল সারা বছরের হিসাবটা হবে স্বচছ আর সহজ৷ এখন মনে হচেছ, হিসাবটা এত সহজ নয়, কোথাও কোথাও জট পাকিয়ে যাচেছ৷

এই বছরে যে সব বড় কাজ হয়েছে, আমার মনে হয় তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচেছ আমাদের স্কুলের ছেলেমেয়ের পাঠ্য বইগুলোতে দেশের সত্যিকারের ইতিহাস তুলে ধরা৷ শেষ পর্যন্ত পাঠ্য বইয়ে জাতির জনক এবং বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নাম ঢোকানো হয়েছে৷ বেঁচে থাকতে থাকতে জিয়াউর রহমান যে দাবি করেছিলেন, ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নামে তিনি পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষনাপত্রটি পাঠ করেছিলেন, সেই কথাটিও এসেছে৷ একাত্তুরের নয় মাস যে রাজাকার,আলবদর, আল-শামসরা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সেটা পাঠ্যবই থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল; সেই সত্য গুলো আবার পাঠ্য বইয়ে নতুন করে লেখা হয়েছে৷ এই সরকারের অনেক কিছু নিয়েই আমাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে, অনেক কিছু নিয়ে আমাদের আশাভঙ্গও হয়েছে৷ কিন্তু পাঠ্য বইগুলোতে সত্যিকারের ইতিহাসকে পুন:প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই৷ এই দেশটা এমন একটা জায়গায় পৌছে গিয়েছে যে আমরা আর কাউকেই সাদা চোখে বিচার করতে পারি না৷ মানুষটার মুখের কথা শুনে আমরা অনুমান করার চেষ্টা করি সে কী আওয়ামীপন্থী নাকি বিএনপি-জামায়াতপন্থী! বিভক্তিটা এমন একটা জায়গায় পৌছে গিয়েছে যে কেউ খোদা হাফেজ বলছে না, আল্লাহ হাফেজ বলছে, সেই কারনটাও খুঁজে বের করার চেষ্টা করি৷ এ রকম অবস্থায় একটা রাজনৈতিক সরকার তার আমলে পাঠ্য বইয়ে ১০০ভাগ সত্যি কথা লিখলেও অনেক মানুষ সেই কথাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খঁুজে পাওয়ার চেষ্টা করত৷ এই সরকারের সেই সমস্যা নেই৷ তারা ইতিহাসের যে কথাগুলো পাঠ্য বইয়ে লিখে যাবে, তার একটা গ্রহনযোগ্যতা থাকবে৷ আমার ধারনা এটি একটি অত্যন্ত কঠিন সমস্যার চমৎকার একটা সমাধান হয়ে রইল৷

পাঠ্য বইগুলো আমি এখনো নিজের চোখে দেখিনি, পত্রপত্রিকা পড়ে এগুলো সম্র্পেক জেনেছি৷ কাজেই আরও কী কী লেখা আছে তা আমি জানি না৷ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়টাতে পাকিস্তান সরকার বঙ্গদ্ধুকে পাকিস্তানের কারাগারে আটক করে রেখেছিল৷ সেই সময় তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন৷ দেশের মানুষকে স্বাধীনতার জন্য সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদান যে রকম কেউ অস্বীকার করতে পারবে না, ঠিক সে রকম নয় মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাজউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বকেও কেউ অস্বীকার করতে পারবে না৷ আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের পাঠ্য বইয়ে এই ঐতিহাসিক সত্য তুলে ধরা খুব প্রয়োজন৷

৩.
এ বছরের হিসাবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচেছ গত আগষ্ট মাসের ছাত্র বিক্ষোভ৷ (এটা কাকতালীয় কি না কে জানে, আগষ্ট মাসেই এই দেশের অঘটনগুলো ঘটে!) ছাত্রদের এক ধরনের স্বত:স্ফর্ত বিক্ষোভের পর যেভাবে পুরো বিষয়টাা নিয়ন্ত্রণ করা হলো, তা খুবই বিচিত্র৷ হঠাৎ করে মনে হলো, এ দেশের ছাত্র-শিক্ষকরা বুঝি সরকারের প্রতিপক্ষ৷ শুধু তা-ই নয়, সরকার বলতে আমরা কি ফকরুদ্দীন আহমদের সরকারকে বোঝাই, নাকি মইন উ আহমেদের  সেনাবাহিনীকে বোঝাই, সেটা নিয়েই সবার মধ্যে একটা বিভ্রান্তি শুরু হয়ে গেল-সেই বিভ্রান্তি আর দূর হয়নি৷ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র -নিয়ে কি ঘটেছে, তা এখনো সবার কাছে একটা রহস্য৷ আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা জানি, সেখানে একটা গাছের পাতাও ছেঁড়া হয়নি কিন্তু তার পরও সেখানে ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে৷ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও একই অবস্থা৷ তাদের বেশির ভাগই পলাতক, সেই ছাত্র কিংবা তাদের বন্ধু-বান্ধবীরা মাঝেমধ্যে আমাকে ফোন করে জানতে চায়, তারা কি করবে৷ আমি তাদের কি বলব বুঝতে পারিনা, যখন কাউকে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে, আমি তাদের কী বলব বুঝতে পারি না৷

আদালতে মামলা উঠছে, আমরা দেখতে পাচিছ সেখানে কোন অভিযোগ প্রমান করা যাচেছ না৷ তার পরও তাদের দুই-তিন বছর জেল হয়ে যাচেছ৷ কারও মনে কোনো দ্বিধা নেই যে পুরো ব্যাপারটা এক ধরনের হয়রানি৷ বেছে বেছে কেন ছাত্র আর শিক্ষকদের হয়রানি করার জন্য বেছে নেওয়া হলো, সেটাও আমরা কেউ বুঝতে পারছি না৷ বিশ্ববিদ্যালযে নানা ধরনের শিক্ষক থাকেন, সকল হয়রানি বেছে বেছে প্রগতিশীল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে৷ মনে হচেছ, আমরা বুঝি দুই হাজার সাত সালে নই, আমরা বুঝি আছি আইয়ূব খান-মোনায়েম খানের আমলে৷

শিক্ষক-ছাত্র নিগ্রহের নাটক এখনো শেষ হয়নি৷ রাজশাহীর শিক্ষকেরা ছাড়া পেয়েছেন, ঢাকার শিক্ষকেরা এখনো ছাড়া পাননি৷ মনে হচেছ, তাঁদের দিয়ে মুচলেকা লিখিয়ে এক ধরনের অসম্মান করানোর খুব ইচেছ৷ সেটা যদি সম্ভব না হয়, অন্তত তাঁদের একটা শাস্তি দিয়ে তারপর দয়া করে ক্ষমা করে দেওয়ার এক ধরনের নাটক করা হতে পারে৷ আমরা সবাই খুব কৌতুহল নিয়ে এই নাটক দেখছি, শেষ দৃশ্যে কী অভিনয় হবে, কেউ এখনো আন্দাজ করতে পারছি না৷

৪.
এ বছরের বড় আরেকটি ঘটনা হচেছ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন৷ এই দেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের সবাই এখন দেশের মাটিতে শুয়ে আছেন৷ যদি তাঁদের সবাইকে এক জায়গায় এনে একটা বীরশ্রেষ্ঠ কমপ্লেক্স তৈরী করা যেত, তাহলে কী চমৎকার একটা ব্যাপার হতো! সেই কমপ্লেক্সে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস থাকত, বীরশ্রেষ্ঠদের সঙ্গে সঙ্গে অন্য মুকিতযোদ্ধাদের ইতিহাস থাকত, থাঁদের বীরত্বের কথা থাকত৷ আমাদের ছেলেমেয়েরা সেগুলো ঘুরে ঘুরে দেখত, বুকের ভেতর দেশের জন্য একটা গভীর মমতা অনুভব করত৷ ব্যাপারটা কি খুবই কঠিন?

৫.
এ বছর আরেকটা বড় ঘটনা ঘটেছে; স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিটা অত্যন্ত প্রবলভাবে উঠে এসেছ্ েহঠাৎ করে উঠে এসেছে তা নয়, এই দাবিটা উঠেছে খুব যুক্তিসংগত কারনেই৷ ঠিক কী কারণ ব্যাপারটা স্পষ্ট নয়৷ হঠাৎ করে দেখতে ফেলাম তারা অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন৷ বদর বাহিনীর কমান্ডাররা বলছেন,এই দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই৷ শুধু তা-ই নয়, উনিশ শ একাত্তুরের স্বাধীনতা সংগ্রাম নাকি মুক্তিযুদ্ধ নয়, একটা গৃহযুদ্ধ৷ সবচেয়ে আপত্তিকর বক্তব্যটি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে, তাঁরা দেরেশর জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেননি৷ সুন্দরী মেয়ের লোভে, সহায়-সম্পত্তির লোভে তাঁরা অস্ত্র হাতে নেমে পড়েছেন৷ উনিশ মত একাত্তুর সালে পাকিস্তানের খবরের কাগজে হুবহু এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলা হতো- তাদের ভাষায়, মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন ভারতের চর এবং দুষকৃতকারী৷ স্বাধীনতার ৩৬ বছর পর একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে হঠাৎ করে এই দেশের যুদ্ধাপরাধীরা এত বড় দু:সাহস কেমন করে পেল? খুব সংগত কারনেই বদর বাহিনীর কমান্ডার আর স্বাধীনতাবিরোধীদের এ ধরনের বক্তব্যে দেশের মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে৷ সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে৷ দেশের সাধারন মানুষ থেকে মুক্তিযোদ্ধারা, সবাই এক হয়ে বলছেন, যা হওয়ার হয়েছে আর নয়৷

এখন এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই! বিষয়টার গুরুত্ব আর বেড়েছে৷ কারণ,জেনারেল মইন উ আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টা ফকরুদ্দিন আহমদ-দুজনেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথাটা বিবেচনায় এনেছেন৷ দেশের মানুষ এক ধরনের আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে দেখার জন্য শেষ পর্যন্ত কী হয়৷ কয়েক দিন আগে আমার কাছে একটা ই-মেইল এসেছে৷ যেখানে দুটি লিংক আছে-ইন্টানেটে সেই লিংকে ক্লিক করা মাত্রই আমি দুটো ভিডিও ছবি দেখতে পেলাম৷ দুটি ভিডিওই স্বাধীনতাযুদ্ধে বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের অনুষ্ঠান এবং সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও৷ একটাতে দেখতে পেলাম, বদর বাহিনীর কমান্ডার মতিউর রহমান নিজামী ও সে ধরনের কিছু মানুষের পাশে আমাদের আইন উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন বসে আছেন৷ দেখে আমার নিজের চোখকে বিশ্বাস হয় না৷ আমার খুব জানার কৌতুহল, কী কারনে তিনি সেখানে গিয়ে বসে ছিলেন৷ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি নিয়ে যখন জোর আলোচনা চলছে, তখন হঠাৎ একদিন শুনতে পেলাম তিনি তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে বলছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা মোটেও তাঁদের দায়িত্ব নয়৷ সত্যি কথা বলতে কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচনের ব্যবস্থা করা ছাড়া আর কিছুই করার কথা নয়৷ কিন্তু তারা বিচার বিভাগের পৃথককরণ সম্পন্ন করেছে (যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকের বিচার প্রক্রিয়া দেখে সেটা এ মুহূর্তে কারও বিশ্বাস হচেছ না) পাঠ্যপুস্তকগুলোর সংস্কার করেছে, দু-দুজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জেলে আটকে রেখেছে, ডজন ডজন মন্ত্রী এবং ‘রাজপুত্র'দের দুর্নীতির জন্য বিচার করছে৷ এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার কাজটি তাদের জন্যই সবচেয়ে সহজ৷ দেশের মানুষ তাদের কাছেই এটা আশা করে৷ তবে মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে এক টেবিলে বসে থাকা ব্যারিষ্টার মইনূল হোসেনকে দেখে আমি একটা বড় ধাক্কা খেয়েছি৷ দ্বিতীয় ভিডিওটি দেখে আমি চমকে উঠেছি, সেখানে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে আছেন আমাদের নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব একটি এবং একটি৷ সেটি হচেছ নির্বাচন করা৷ সেই নির্বাচনের জন্য কি বেছে নিতে হলো এমন একজন মানুষকে, যিনি স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত? বিজয়ের মাসে আমরা কি সে জন্য আমাদের আশাভঙ্গের বেদনাটুকু এই সরকারকে জানাতে পারি না?

(যাঁরা ভিডিও গুলো দেখতে চান, তাঁরা এই লিংগুলোতে একবার ক্লিক করে দেখতে পারেন:

http://ww.wyoutube.com/awtch?v=Zc2djYrzjoY
http://youtube.com/awtch?v=cjYR8&feature=related)
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
অধ্যাপক
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ


শাবিপ্রবি
[নভেম্বরে ‘পরবাস’ এর আমন্ত্রণে প্রবাস প্রজন্ম আয়োজিত শিশুদের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সস্ত্রীক জাপানে আসেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল৷ বিজয় দিবস উপলক্ষে পরবাস এর জন্য একটি লেখা চাওয়া হয় তার কাছে৷ ইতিমধ্যে তার বিখ্যাত কলাম ‘সাদাসিধে কথা’য় ‘ফিরেদেখা’ শিরোনামে তার লেখা প্রকাশিত হলে সেটিই আমরা পাঠকদের জন্য সংকলিত করলাম৷ পরবাস]

 

 

প্রথম পাতা

সম্পাদক

পরবাস পরিবার

পুরনো সংখা

আমাদের কথা

সকল যোগাযোগ

 

©2007 Porobash.    Privacy Policy